লেখা পাঠানোর ঠিকানা- admin@tutorialsbangla.com
Custom Search

টিভিতে খবর দেখিবার সৌভাগ্য আমার হামেশা ঘটে না, কারণ আমার টিভি নাই

photo Credit: Alex Antrapov


♥"ভাষার রাজনীতি"♥

সাকার মুস্তাফা

টিভিতে খবর দেখিবার সৌভাগ্য আমার হামেশা ঘটে না। কারণ আমার টিভি নাই, আর হলের রিমোট যে গুণীদের হাতে থাকে তারা মিনিটে অন্তত ৫/৭ বার চেঞ্জ করেন, হিন্দি সিনেমার ডিসকো গান তাদের ওমর খৈয়ামের শুরা।গত দিন দুই ঘটিতেছে উল্টা। খবর দেখিতেছি, মনোযোগের বালাই নাই। কারণ, কেন জানি মনে হয়, একই সংবাদ বারবার পড়ে।কিন্তু একটি শব্দ মাঝে মধ্যে কানে আঘাত হানিল-যৌন গণনা।আমার মধ্যে আগ্রহ চাড়া দিয়া উঠিল, ব্যপার কি? ভাল ভাবে দেখিয়া শুনিয়া বুঝিলাম "যৌনগণনা " নয়, "জনগণনা"। কানের ভুলে প্রমাদ গুণিলাম, এতদিনে আরেকবার নিশ্চিত হইলাম-আমি যথার্থ কালা।কিন্তু জনগণনা কি ঠিক বুঝিতে সময় লাগিল। জানিলাম, ছিটমহলবাসীগণ, মাথা গোনাইয়া আজ প্রমাণ
করতেছে তারাও মানুষ।তাদের কপাল খুলিয়াছে, আর কপার পুড়িয়াছে ব্যাটা "আদমশুমারির"।নানিকে (বয়স-৮০+, এবং নিতান্ত মূর্খ) বলিলাম, তুমি এ বছর মরিবেনা। চাইলে হয়তো জনগণনা করিতে পারিবে।নানি কিছু গালি দিয়া আধুনিক শিক্ষার কুফল, আর কলিযুগে লাজ-লজ্জার বালাই নাই, তা বলিয়া থামিল। আমি আবার প্রমাদ গুণিলাম, শেষে, যেই প্রায় ১৫০ বছরের পুরানো শব্দ, আদমশুমারির কথা বলিলাম, ওমনি খুশি। আমি বাঁচিলাম। রাতে ঘুম আসে না, ভাবিলাম, কিসে আদমশুমারিকে নির্বাসিত করিল। ঘুম আসিল। নাকে কিসের দুর্গন্ধ লাগিতেছে, খেয়াল হইল, দুরাচার আদমশুমারি থেকে মুসলমানিত্বের গন্ধ আসিতেছে। মনে মনে খুশি হইলাম, যে শব্দ দুর্গন্ধ ছড়াই তাকে ঝাটাইয়া বিদেয় করা ভাল। হঠাৎ দেখিলাম, মহাত্মা জাতীর জনক আমাকে বলিলেন, ওরে নরাধম, তুই কি আমার ভাষণ শুনিস নাই? ওরে নাদান, শেরে বাংলা, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রবী ঠাকুর, শ্যমাচরণ
গঙ্গোপাধ্যায়, প্রমথ চৌধুরী, প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, আহমদ ছফার ভাষাবিষয়ক মতে- বোধে কি তোর কোনো ধারণা নাই? আমি বলিলাম, বাবা, এই অধম-নাবালকের অজ্ঞতা কসুর হয়। বি.দ্র. ফোর্ট উইলিয়াম পণ্ডিদের দ্বারা, আমার, জনগণের ভাষাকে নিয়ে যে টানাহেঁচড়া শুরু তা শেষ হয় নাই, আজকের এই আকালের কালে, হে মহান ভাষাসৈনিকগণ, আর একবার এই পূণ্যবঙ্গধামে নাযেল হও। আদমশুমারির মতো জনপ্রিয়, সর্ববোধ্য অসংখ্য শব্দের উপ্রে যে কালো শকুনের হাত, তা থেকে আমার আবেগের, প্রাণের, মায়ের, নানির, রাষ্ট্রের ভাষাকে রক্ষা করো।


লেখক পরিচিতি

সাকার মুস্তাফা।
কবি,গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।
প্রভাষক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ত্রিশাল,ময়মনসিংহ। 

জুয়েল মিয়াজির তিনটি অনুগল্প

অনুগল্প ১। (পশু পূজারি)
---------------
বড়ো গিন্নি ছেলেকে বারবার কান্নার কারণ জিঙ্গেস করে। কিন্তু ছেলে কান্না থামিয়ে কথা বলার প্রয়োজনবোধ করে না। অবিরত কেঁদেই যাচ্ছে
সে। জমিদার পুত্র ফটিকচরণ কান্নার রহস্য না উন্মোচন করলেও মা কিন্তু ঠিকই
পুত্রের কান্নার কারণ বুঝে নিয়েছেন। নিশ্চই
পাশে দাঁড়ানো বাড়ির চাকরানীর ছোট্ট দুষ্টু মেয়ে ফটিকের গায়ে হাত তুলেছে। তাই গিন্নি রাগে ঘৃণায় ধপাশ ধপাশ করে
কয়েকটা কিল বসিয়ে দেয় মিলুর পিঠে।
এতক্ষণ কোন কথা না বললেও,এবার মিলুকে মারতে দেখে ফটিকচরণের মুখে বুলি ফুটে, কান্নার স্বরেই বলতে লাগলো, মা মা মিলুকে মেরোনা,ও আমাকে মারেনি।
পায়ে বিড়ালে কামড় দিয়েছে! সত্যিই তো, মা দেখলেন ছেলের পা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। যে মা ছেলেকে মারার বিনা অপরাধে নিরিহ ছোট্ট মেয়েটির পিঠ গরম করতে পারে। সে মা চাইলেই অপরাধী বিড়ালের পরকালের টিকেট কেটে দিতে
পারতেন। বিড়ালটি পাশেই ছিলো। কিন্তু তা তিনি করলেন না। কারণ এই তল্লাটের জমিদারদের একটা সুখ্যতি আছে তারা নিরীহ পশুর গায়ে হাত তোলেন না।


অনুগল্প ২(ব্যাবহার) 
.....
অফিসের প্রথম শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে আমাদের সম্মান ছিল অনেকের চেয়ে বেশি । কিন্তু তবুও কেন জানি আমাদের সহকর্মী
মোতালেব সাহেবের মনে হতো যে জুনিয়র
কিংবা নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীরা তাকে যথেষ্ট সম্মান করে না।তাই তিনি ভাবলেন যে  নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীদদের ভয় দেখানোর জন্য তাদের  সাথে  অসৌজনমুলক আচরণ করবেন।ফলে তারা ভয়ে মোতালেব সাহেবকে আরো বেশি সম্মান করবেন।যে কথা সেই কাজ ,সে দিন কি একটা প্রয়োজনে তার অফিস কক্ষে গিয়ে দেখি তিন চার জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী খুনের আসামীদের মত ভয়ে কাবু হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে। নিরব হয়ে তারা মোতালেব সাহেবের অশ্রাব্য গালিগালাজ শুনছে।তাদের করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে আমার কেন জানি মায়া হলো খুব।তাই মোতালেব সাহেবের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম ভাই ছেড়ে দেন এবারের মত। প্রথমে একটু আমতা আমতা করলেন সাহেব।পরে আমার কথা বিবেচনা করে মোতালেব সাহেব তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন।এরপর ওরা সবাই সালাম দিয়ে চলে যাওয়ার পর,মোতালেব সাহেব আমার দিকে ফিরে বলতে লাগলেন; সাজ্জাদ সাহেব বুঝেন না কেন? এসব ছোটলোকদের ভয় না দেখালে , শাস্তি না দিলে তারা সম্মান করবে না,মনে রাখবে না,ফলে অফিসে আমার বাহাদুরি বাড়বে না। মোতালেব সাহেব যখন কথা বলতেছিলেন তখন আমি খেয়াল করলাম যে তার বামহাতের একটা ক্ষত শুকানো কালো দাগ।আচ্ছা মোতালেব সাহেব আপনার হাতে এই কালো দাগটা কিসের? আমার প্রশ্নের জবাবে মোতালেব সাহেব বললেন, এই দাগ কুকুরের কামড়ের।তিনি কুকুরটাকে কিছুই করেনি, শান্ত বালকের মত স্কুলে যাচ্ছিলেন হঠাৎ কুকুরটা তার হাতে একটা কামড় বসিয়ে দিল তেড়ে মেরে দৌড়,তখন শৈশব ছিল।আমি দুঃখ করে বললাম,আহ! আচ্ছা স্যার আপনাকে যে কুকুরটা কামড় দিয়েছিল সে কুকুরটার কথা আপনার এখনো মনে আছে? মোতালেব সাহেব আমার দিকে বিচক্ষণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল, হাঁ মনে আছে তো, কুকুরটা লাল রঙের স্বাস্থ্যবান ছিল। এরপর আমি মোতালেব সাহেবকে জিঙ্গেস করলাম, আচ্ছা স্যার আপনি ঐ কুকুরটাকে সম্মান করেন?মোতালেব সাহেব হো হো করে হেসে দিয়ে বললেন, কি বলেন সাজ্জাদ সাহেব আবোল তাবোল! কুকুরকে আবার মানুষ সম্মান করে না কি? আমিও হো হো করে হেসে দিয়ে বললাম, ঠিক বলেছেন
মোতালেব সাহেব মানুষ দুষ্টু স্বভাবের কুকুরদের ভয় পায়,মনে রাখে কিন্তু সম্মান করে না।
অনুগল্প →৩।(ভ্রান্তি)
কবে, কখন, কিভাবে যে ভাগ্য বিধাতার সাথে আমার মনোমালিন্যের সুচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমি নিজেও অবগত নই।আবাল্য কেটেছে অভাব অনটন দুঃখ যন্ত্রনা,আর হতাশার বিষাদময়তায়।দুখের কথা ভাবলেই নতুন করে দুঃখ পীড়া দেয়। তাই এখন যথাসাধ্য চেষ্টা করছি দুঃখকে ভুলে থাকতে।কিন্তু ভুলে থাকতে পারি কই আর,সমবয়সীদদের সুখী জীবনযাপন দেখার পর দুঃখকে ভুলে থাকা সম্ভব হয়ে উঠেনা।বিশেষ করে আমাদের ভাড়া বাসার মালিকের ছেলেটাকে দেখলে আমার হৃদয়ে
গেথে থাকা দুখের সাগরে নতুন করে জোয়ার আসে।ছেলেটা একেবারেই রাজপুত্তুর,টাকা পয়সা,শিক্ষাদীক্ষা কোন কিছুরই কমতি নেই তার।তার এই সুখী জীবন দেখে মনে হয় কেউ একজন যেন আমাকে দারুন ভাবে ঠকাচ্ছে।তাই মনে মনে
সর্বধা নিজেকে তুচ্ছ ভাবতে শুরু করি।সেদিন ত্রিশাল বাসস্টপ থেকে ময়মনসিংহ টাউনহলের দিকে যাচ্ছিলাম বাসেই ওর সাথে দেখা হয়।আমার পাশের
সিটেই বসে ছিল সে। ভাবলাম ওর সাথে কোন কথাই বলব না।কিন্তু পরে অনেক্ষন আমতা আমতা করার পর ওর সাথে কথা জুরে দেই।নিজের জীবনের সকল দুঃখগুলি একে একে সবিস্তরে বর্ণনা করতে থাকি ।কিন্তু সে ফ্যালফ্যাল করে
তাকিয়েই থাকলো কতক্ষণ, কোন সান্তনার বাণী শোনালোনা, বললো না যে ভাই সুখ দুখ নিয়েই তো মানুষের জীবন।আমার বিরক্ত চলে আসে তার প্রতি।তাই মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেই।এমন সময় পিছনের সিট থেকে এক যাত্রী বলে উঠলো, আরে ভাই কার সাথে কি বলেন এই ছেলে তো ছোটবেলা থেকেই মুক বধির । কানেও শোনেনা, কথাও বলতে পারে না।

লেখক :জুয়েল মিয়াজি।
গল্পকার।
ছাত্র,ফোকলোর বিভাগ।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ত্রিশাল, ময়মনসিংহ। 

জুয়েল মিয়াজি

Spread the love

অর্ধেকপ্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকা দুটি প্রানী অপেক্ষায় থাকে




এপার থেকে ওপারে 

মাসুদ রায়হান, বুয়েট তৃতীয় বর্ষ, কেমিকৌশল বিভাগ


কোন একদিন উদ্বাস্তু শিবিরের বিকলাঙ্গ মানুষটার মত
খোঁড়াতে খোঁড়াতে হঠাত তোমার দরজায় কড়া নেড়ে
পরম আর্দ্র কন্ঠে- 
‘আমাকে এক গ্লাস পানি দেবে?
বড্ড পিপাসা পেয়েছে 
সারাদিন রৌদ্রের মধ্যে ঘেমে নেয়ে প্রান যায় যায়’
অতঃপর কাচের গ্লাস ভর্তি পানি এনে তুমি
আমাকে দেখে কিঞ্চিত শক খেয়ে,
হাত থেকে পানি সমেত কাচের গ্লাসের মেঝেতে পড়ে
ভাংচুরের আওয়াজ হওয়ার আগেই-
একি সুলায়মান ! 
এই অবস্থা কেন তোমার ?
কোথায় ছিলে এতোদিন?

কেন?
- আমাদের তো এভাবেই দেখা হবার কথা ছিল’
-‘কন্ঠ এতো ভেঙে গেছে কেন তোমার সুলায়মান ?
মনে হচ্ছে গ্রীষ্মের খরতাপে শুকিয়ে শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে’

তুমি জানো বড়ো মাসীর ছোট ছেলেকে দিয়ে তোমার কত খোজ নিয়েছি 
শরত কুমিল্লা থেকে কুষ্টিয়া তোমাকে তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়িয়েছে 
কোথায় ছিলে তুমি ?
সেই যে সেই ঝড়ের রাতে বাবা জোর করে আমায় বিয়ে দিয়ে দিল।
এরপর,
এক বুক কেদেছি প্রতি রাতে -
কেদে কেদে চোখের পানিতে সুরমা হয়ে যেতে দেখেছি ।
আমাকে একবার ক্ষমা প্রার্থনা করবার সুযোগটুকুও দিলে না! 
প্রতি ক্ষনে মনে হয়েছে -
ঐ আকাশ, এই রাত, এই সব ঝিঝিপোকারা সারাক্ষন ডেকে ডেকে আমাকে অভিশাপ দিচ্ছে 
আমার অমঙ্গল কামনা করছে । 
তাদের অভিশাপেই মনে হয় আমার এই হাল ,
জীবন্মৃতের মত পড়ে আছি এখানে, এই নরকে!
আমি যে আর পারছি না সুলায়মান।
আমাকে মুক্তি দেবে না এই দহন জ্বালা থেকে ?
মুক্তি!! 
আমাকে হাসালে তুমি! 
দেখেছ না , জীবন থেকে মুক্তি নেওয়ার জন্য 
খোদার দেওয়া শেষ সম্বল পা দুটোকেও হারিয়েছি! 
কই, আমি তো মুক্তি পাই নি ! 
জরা জীর্নতায় আচ্ছন্ন এই জীবনটা নিয়ে এখনো পথে পথে ঘুরি ,
কুকুর -বিড়ালের সাথে রাত কাটাই
সেদিন কি হয়েছিল জানো-
কি যেন হঠাত কোন ব্যথায় চেতনা হারিয়ে
পড়ে ছিলাম মাঠের ঐ পাশটাতে
আমাকে মৃত ভেবে কিছু শকুনও জটলা বেধেছিল চারিধারে 
পিঠের বামপাশ টাতে দেখো-
কিভাবে ঠুকরে ঠুকরে খেয়ে নিয়েছে ।
ওদেরো বোধ হয় আমার মত না খেয়ে খেয়ে দিন যায়'

গত পরশু দু' আনা দিয়ে একটা পাউরুটি কিনেছিলাম।
সেটা খেয়েই আছি দুদিন !
তোমার ঘরে কোন উচ্ছিষ্ট খাবার হবে ?
আমাকে একটু দেবে ?
বুকে যে আমার অসীম ক্ষুধা ! 
মাঝে মাঝে মনে হয় সমগ্র পৃথিবীটাকে খেয়ে সাবাড় করে দিই ! 

সুলায়মান, তোমার পায়ে পড়ি -
তুমি এভাবে আর বলো না
তুমি আমার সহ্যের পরীক্ষা নিতে চাইছো? 
তবে দেখো পিঠের দিকে তাকিয়ে -
প্রতি রাতে পাষন্ডটা মারতে মারতে রক্তাক্ত করে দেয় ! 
তিরিশ বছর এই জ্বালা সহ্য করে কিভাবে বেঁচে আছি জানো ?
আমার প্রথম সন্তানটাকেও পাষন্ডটা নিজ হাতে
গলা টিপে মেরে ফেলেছে ! 
আমিও হয়তো মরে যেতাম বহু আগেই! 
কিন্তু সৃষ্টিকর্তার খেলা শেষ করার আগে কিভাবে যায় বলো ! 
এ খেলা তো এখনো শেষ হয় নি ! 

মধুমিতা ! 
তুমি বড্ড কষ্টে আছো না ?
তিরিশ বছর পর এই প্রথম তোমার মুখে আমার নামটা শুনতে পেলাম ! 
তোমার মনে আছে ? - 
সেই যে সেদিন তুমি আমার হাতে লেইস ফিতা বেঁধে দিয়ে বললে,
এই যে বেধে দিলাম,
এ বাধন জন্ম-জন্মান্তরের! 
আমি এ বাধন ছিন্ন করবো ক্যামন করে? 
আমাদের না হয় ধর্মটাই আলাদা ছিলো। 
আর সবই তো এক ছিল’ 
তবুও কেন নিষ্ঠূর দুনিয়া এভাবে দুজনের অন্তরটাকে ভেঙে তছনছ করে দিল ! 

তোমাকে একটা প্রশ্ন করবো মধুমিতা,
কখনো জিজ্ঞেস করে করোনি তো
-ভালবাসো এখনো ?
-প্রমান চাও?
যা কিছু পরমেশ্বর তৈরী করেছেন,
তা ছিন্ন করার ক্ষমতা না তোমাকে দিয়েছেন না আমাকে ! 

যাক তাও ভালো-
কুকুর বিড়ালের সঙ্গে বেঁচে থাকা , 
তাদের সাথে খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়া
মানুষটার জন্য বুকে একটু হলেও ভালোবাসা রেখেছো
শুনে ধন্য হলাম !
 এবার হয়তো মরেও শান্তি পাবো ! 

সুলায়মান, একটা প্রশ্ন করবো ?
তুমিও তো জিজ্ঞেস করে করোনি কখনো! 
তুমি কেন এসেছো এখানে ?
সত্যি করে বলোতো
পানি চায়তে নাকি আমাকে দেখার যে পিপাসা 
নিয়ে বছরের পর বছর পার করেছো-,
তাকে নিবৃত্ত করতে!
যদি তা হয়ে থাকে তবে এক্ষুনি চলে যাও-
তোমার আমার সত্যিকারের মিলন তো হবে ওপারে-
তুমি অথবা আমি যেই আগে যাই না কেন
প্রতিক্ষা করবে, কথা দাও !

কথা দিলাম! কথা দিলাম ! কথা দিলাম ! 
অতএব, এবার বিদায় দাও -

অন্ধকার নিশিথিনির তানপুরাটা বেজে চলে,
মর্ত্যের হাহাকার আছড়ে ভাঙে চিরযৌবনা নদীর দুকূল।
নিশ্চিহ্ন করে দেয় তটরেখার অস্তিত্ব।
অর্ধেকপ্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকা দুটি প্রানী অপেক্ষায় থাকে
ওপারে মিলিত হওয়ার !